প্রবাসী ভারতীয়দের পাঠানো অর্থের উৎসস্থলে সাম্প্রতিক বছরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একসময় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দেশটির প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস বিবেচিত হলেও তা এখন এশিয়া মহাদেশের বাইরে সরে গেছে। সেই স্থান দখল করে নিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র, যা ভারতীয় কর্মীদের দক্ষতার পরিবর্তনকেও প্রতিফলিত করছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য হিন্দু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় অভিবাসীদের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হিসেবে সম্প্রতি ইউএইকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতীয়দের মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় অভিবাসনের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের মোট রেমিট্যান্সের বড় অংশ বা ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে। এরপর ১৯ দশমিক ২ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গত বুধবার প্রকাশিত আরবিআইয়ের ষষ্ঠ রেমিট্যান্স সমীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো থেকে ভারতের রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ সালের সমীক্ষায় ইউএই ছিল ভারতের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস, যার পরিমাণ ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। তখন দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা ছিল ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩-২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র উঠে এসেছে প্রথম স্থানে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া একত্রে ২০২৩-২৪ সালে ভারতের মোট রেমিট্যান্সের অর্ধেকেরও বেশি সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসিভুক্ত উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান ও বাহরাইন সরবরাহ করেছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এটি ২০১৬-১৭ সালের ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশের তুলনায় কম।
আরবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মূলত ভারতীয় অভিবাসী শ্রমিকদের প্রধান কর্মসংস্থান কেন্দ্র। দেশটির নির্মাণ খাত, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা ও পর্যটন শিল্পে কাজ করেন বেশির ভাগ এসব অভিবাসী। এসব পেশায় পারিশ্রমিকের হার তুলনামূলক কম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির অভিবাসীরা মূলত উচ্চ বেতন বা হোয়াইট কলার চাকরিতে নিয়োজিত। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় অভিবাসীর ৭৮ শতাংশই উচ্চ আয়ের পেশায় নিযুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা, বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় অবদান রাখা কর্মকাণ্ড। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় অভিবাসী তুলনামূলক কম হলেও সেখান থেকেই রেমিট্যান্স বেশি আসছে।
৩০টি অনুমোদিত ব্যাংকের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে জরিপ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যা দেশটির মোট অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের প্রায় ৯৯ শতাংশ ধারণ করে। দুটি শীর্ষ আর্থিক লেনদেন পরিষেবাদাতা এবং দুটি আন্তর্জাতিক ফিনটেক কোম্পানির তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।